
রাজশাহীকে শান্তির শহরে রূপ দেওয়া, কোন চাঁদাবাজি বা ভূমিদস্যুতা নয়, যারা এইগুলো করবে তাদেরকে আইনের আওতায় নেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহীর সার্কিট হাউজে রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ভূমি মন্ত্রী আরো বলেন, বিভাগীয় প্রশাসন যার যা কাজ আছে, তারা সুন্দরভাবে রাজশাহীকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আর আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ সততা এবং নিষ্ঠার সাথে জনগণের সেবা, কোনো শাসন নয়, আমরা জনগণের সেবা করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, হয়ত আমাদের অনেক নেতৃবৃন্দ ইচ্ছার বাইরেও তদবির করেন। অনেক সময় অফিসে আপনারা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আপনারা সবকিছু আইনের মধ্য দিয়ে করবেন। আমরা চাই জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে। আপনারা সাংবিধানিক দায়িত্বপ্রাপ্ত। আমি আশা করব, আপনারা নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চাচ্ছেন, নতুন পরিবেশে খুব দ্রুত সময়ে বাংলাদেশ যুগোপযোগী ও আধুনিক ব্যবস্থায় প্রবেশ করুক। রমজানে যেন বাজার ঠিক থাকে, জনদুর্ভোগ যেন না হয়, আপনারা সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দেবেন। আপনারা কাউকে বস মনে করবেন না। আপনারা আমার সহকর্মী। আমরা রাজশাহী মহানগর, জেলা এবং বিভাগের উন্নয়ন ঘটাতে চাই।
এ সময় রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের গত এক বছরের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি এ প্রতিষ্ঠানগুলো খুবই ডায়নামিক বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের যে-সব অনিয়মের দুর্নাম আছে সেগুলো আমাদের ব্যথিত করে। আমি আশা করছি ভূমি মন্ত্রণালয়ের এসব অনিয়ম ভবিষ্যতে আর হবে না। আমি চেষ্টা করব যে, মন্ত্রণালয় হতে আপনাদের ট্রান্সফারের মত বিষয়গুলোতে যেন বিচলিত না হতে হয়।
আরএমপি প্রতিষ্ঠায় ভূমিমন্ত্রী তার নিজের ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, বিগত সময়ে মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে আমি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিকট ডিএমপি ও সিএমপির ন্যায় আরএমপি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করেছিলাম। আগে রাজশাহী খুবই নিরাপদ ছিল। বিগত সতেরো বছরে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজশাহী অনেক পিছিয়ে গেছে। আমরা আমাদের প্রিয় নগরীকে অতি দ্রুত শান্তির নগরী করতে চাই।
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যা কিছু হয়েছে ভুলে যান, মনের মাঝে কেউ যেন দুঃখ-ব্যথা নিয়ে না থাকেন। যারা অন্যায়ের সাথে ছিল তাদের আইন অনুসারে ব্যবস্থা হবে। আর যারা দেশের জন্য সততার সাথে কাজ করেছেন, তারা আরও সুসংগঠিত হয়ে জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার কাজটি করবেন। মানুষ যত ধরনের অনুরোধ করুক না কেন, আপনারা আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবেন।
সততা ও নিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভূমিমন্ত্রী শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে অনুসরণ করেন বলে মন্তব্য করে তাঁর (শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান) সততা, দক্ষতা ও দেশপ্রেম বিশ্বব্যাপী সবার কাছে অনুকরণীয় বলে উল্লেখ করেন।
এ সময় মিজানুর রহমান মিনু সকল মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহিদ এবং রাজশাহীর মাটিতে যারা অবদান রেখে গেছেন তাদের পারলৌকিক জীবনের শান্তি কামনা করেন এবং জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে যারা আহত হয়েছে তাদের সুচিকিৎসার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক।
এ সময় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।